April 20, 2026, 1:33 am

রূপগঞ্জে অপহৃত টেক্সটাইল মিলের ৪ শ্রমিক উদ্ধার, ৫ অপহরণকারী আটক

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অপহৃত টেক্সটাইল মিলের ৪ শ্রমিককে উদ্ধার করেছে ভূলতা ফাঁড়ির পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআই মিন্টু বৈদ্য‘র নেতৃত্বে উপজেলার সাওঘাট এলাকার হাজী শের আলীর ছেলে নজরুলের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ওই শ্রমিকদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ৫জন অপহরণকারীকে আটক করা হয়।
উদ্ধারকৃত শ্রমিকরা হলেন, দিনাজপুর জেলার শে^তাবগঞ্জ উপজেলার আবু সুলতানের ছেলে মো: মমিনুল ইসলাম (১৮), জাবেদ মুর্মুর ছেলে রিপন মুর্মু (১৯), সোহরাব হোসেনের ছেলে আব্দুল্লা ইসলাম(২৩),মৃত শ্রী সাধু চন্দ্র রায়ের ছেলে শ্রী মিঠুন চন্দ্র রায় (২০)।
অপহরণকারীরা হলেন, রূপগঞ্জ উপজেলার সাওঘাট এলাকার আমান চৌধুরীর ছেলে সাকিব চৌধুরী(২০), বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার কলাগাছীয়া এলাকার শহিদ খন্দকারের ছেলে সাব্বির হোসেন (২০), আড়াইহাজার উপজেলার লস্করদি এলাকার ছানাউল্লাহ ভূঁইয়ার ছেলে জাবেদ ভূইয়া (২২), রূপগঞ্জ উপজেলার সাওঘাট ঋষিপাড়া এলাকার রাম দাসের ছেলে রাম কিশোর (২০), বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার হলদিবাড়ী এলাকার খোকন মুছল্লির ছেলে তামিম মুছল্লি (২০)।
ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিন্টু বৈদ্য জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নান্নু স্পিনিং মিলসের ৫জন শ্রমিক উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার মাস্টার কাউন্টারে টিকেট সংগ্রহ করতে আসলে অপহরণকারীরা প্রথমে ২জনকে অপহরণ করে। বাকি ৩জন শ্রমিক ২জনকে পাশে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে সাওঘাট গেলে অপহরণকারীরা পালাক্রমে আরো ২জনকে অপহরণ করে। পরবর্তীতে বাকি ১জন ভূলতা ফাঁড়ির পুুলিশকে অবগত করলে পুলিশ দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সাওঘাট এলাকার হাজী শের আলীর ছেলে নজরুলের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অপহৃত ওই ৪শ্রমিককে উদ্ধার করে এবং ৫জন অপহরণকারীকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, অপহৃত ৪শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫জন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা